সংবিধান বদলে দেওয়ার ইচ্ছা ভাইরাল হতেই ক্রুদ্ধ উপাচার্য, হাতে লিখেই ছাত্রকে হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ বিশ্বভারতীর

213
সংবিধান বদলে দেওয়ার ইচ্ছা ভাইরাল হতেই ক্রুদ্ধ উপাচার্য,  হাতে লিখেই ছাত্রকে হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ বিশ্বভারতীর 1
সংবিধান বদলে দেওয়ার ইচ্ছা ভাইরাল হতেই ক্রুদ্ধ উপাচার্য,  হাতে লিখেই ছাত্রকে হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ বিশ্বভারতীর 2
ভিডিও বন্দী হয়েছিল এই ছবি 

নিজস্ব সংবাদদাতা: সধারনতন্ত্র দিবসে পতাকা উত্তোলনের পর পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন দেশের সংবিধান মাত্র কয়েকজনের তৈরি। বলেছিলেন সুযোগ এলে ফের বদলানো হবে সংবিধান। অনেকটাই গেরুয়া মতের এই বক্তব্য প্রকাশ্য হতেই হৈচৈ পড়ে যায়। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। আর তার পরেই খোঁজ শুরু হয়, কোন পড়ুয়া মারফৎ মোবাইল বন্দী হয়ে ছড়িয়ে পড়ে? আর চিহ্নিত হওয়া মাত্রই সাদা কাগজে সিল-ছাপ ছাড়াই হাতে লেখা এক ফতোয়া নোটিশে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ বিশ্বভারতীর এক ছাত্রকে। আর তার পরেই নতুন করে তোলপাড় ক্যাম্পাস।

সংবিধান বদলে দেওয়ার ইচ্ছা ভাইরাল হতেই ক্রুদ্ধ উপাচার্য,  হাতে লিখেই ছাত্রকে হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ বিশ্বভারতীর 3

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সাধরনতন্ত্র দিবস ছিল রবিবার। ২৪ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার রাত্রে আচমকা হাতে লেখা এই নোটিশটি প্রকাশ্যে আসে। তাতে বিজ্জু সরকার নামে ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূর্বপল্লী সিনিয় বয়েজ হস্টেলে ছাড়ার নিদান দিয়েছেন বিশ্বভারতীর প্রক্টোর শঙ্কর মজুমদার। কারন হিসাবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজ্জু সরকার সাধারনতন্ত্র দিবসের দিন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বক্তব্য মোবাইলে রেকর্ড করে তা সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
যে ভিডিওটি পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়েছে নানা মাধ্যমে। এবং সেই ব্যবহারের ফলে নাকি উপাচার্যের মানহানি হয়েছে। তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এমনই অজুহাত দেওয়া হয়েছে নোটিশে। আর এই ‘অপরাধে’র জন্য বিজ্জু সরকারকে লোটা কম্বল গুটিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রোক্টর নোটিশে লিখেছেন, এই নির্দেশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান বদলে দেওয়ার ইচ্ছা ভাইরাল হতেই ক্রুদ্ধ উপাচার্য,  হাতে লিখেই ছাত্রকে হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ বিশ্বভারতীর 4
এই সেই হাতে লেখা চিঠি 

স্বাভাবিকভাবেই এমন নোটিশ দেখে অবাক হয়েছে সব মহল। উপাচার্যের প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্য ভিডিও করে তা সোস্যাল মিডিয়া ছড়ানোর পেছনে সংশ্লিষ্ট ছাত্রের কি দোষ রয়েছে তা ভেবে পাচ্ছেন না কেউই। সোস্যাল মিডিয়ায় পাওয়া কে কি উদ্দেশ্যে বা কোন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যবহার করেছেনে তার জন্য বলির পাঁঠা কেন হতে হবে সাধারন একটি ছাত্রকে এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য ক্ষোভের সাথে জানিয়েছন, ‘‘এরকম আবার হয় নাকি। আরো একটি গা জোয়ারি সিদ্ধান্ত এটি। প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন উপাচার্য। তা মোবাইল বন্দী করার বা সোস্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার কারনে কেন এক সাধারন ছাত্রকে এমনভাবে হেনস্থা করা হবে। বিশ্বভারতীতে এক মাৎস্যন্যায় চলছে। তাছাড়া নোটিশটি হাতে লেখা, নেই কোনো লেটার হেট, সিল।’’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
এদিকে নোটিশ পাওয়ার পর  স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন ছাত্রটি। ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন তিনি।    উল্লেখ্য সাধারনতন্ত্র দিবসের দিন ক্যামেরা বন্দী হওয়া ওই  ভিডিওতে দেখা যায়,  উপাচার্য পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন। তাতে তিনি বলেছেন, ‘‘সংবিধানটা বানানো হয়েছিল সংখ্যালঘু ভোট দিয়ে। ২৯৩ জন লোক সংবিধান সভায় বসে সংবিধান বানিয়েছিলেন। তৎকালীন কাগজ যদি দেখো, অনেকেই অপছন্দ করেছিলেন। আজকে সেটাই হয়ে গেল আমাদের কাছে ‘বেদ’।  যারা আমরা ভোটার, যারা আমরা সংসদ তৈরী করি সময় এলে আমরা সংবিধান পরিবর্তন করব।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সংবিধান সভা কম সংখ্যার জ্ঞানীগুণী মানুষদের নিয়ে তৈরি হলেও তাঁদের রচিত নীতি সমূহ সংসদে পাশ হতে হয়েছে। তাই সংবিধান সংখ্যালঘু মানুষদের রচিত এই ধারনা দেওয়াটা আসলে ইচ্ছাকৃত ধোঁয়াশা তৈরি করা। আর এটা করেই গেরুয়া শিবির সংবিধানের মূল কাঠামোতে আঘাত হানতে চাইছে। উপাচার্য সেই গেরুয়া ভাবনাকে সামনে আনতে চাইছেন। তাই বিষয়টি প্রকাশ্য হওয়ায় ক্রুদ্ধ তিনি।