সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ঢুকতে হয় গ্রামে! গ্রাম বাঁচিয়ে ঘর বাঁচানোর অভিনব উদ্যোগে পাঁশকুড়ার গ্রাম

295
Advertisement

পীযুষ কান্তি ঘোষ: বাড়িতে নয়, গ্রামে ঢুকতে গেলেই ধুতে হবে হাত আর পরতে হবে মাস্ক! এখন আর বাড়ি বাঁচানোর লড়াই নয়, লড়াই গ্রাম বাঁচানোর। গ্রাম বাঁচালে বাড়ি বাঁচবে। তাই গ্রামে ঢোকার মুখেই সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার মস্ত আয়োজন। বিশেষ প্রয়োজনে নেহাৎই যাঁদের বাইরে বের হতে হচ্ছে তাঁদের ফিরতে হলে হাত ধুয়েই ঢুকতে হচ্ছে গ্রামে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার এ ছবি দেখতে গেলে যেতে হবে প্রত্যন্ত গ্রাম কনকাবাগিচায়। পাড়ার যুবকরা মিলে এমনই অভিনব ব্যবস্থা করেছেন গ্রামকে সুরক্ষিত রাখার।

Advertisement

পাঁশকুড়া ব্লকের শেষ প্রান্তে হাউর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ছোট্ট গ্রাম কনকাবাগিচা। মেরেকেটে ৪০০ জন মানুষ বাস করেন এই গ্রামে। তাঁদের অধিকাংশই কৃষিজীবী। স্থানীয় কয়েকজন যুবক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, গ্রামের ভিতরে কাউকে প্রবেশ করতে গেলে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে। সেই মতো গ্রামের প্রবেশপথে তালপুকুর এলাকায় একাধিক হাতে লেখা পোস্টারও লাগানো হয়েছে। তাতে লেখা, ‘সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে গ্রামে প্রবেশ করুন’। কোনওটাতে আবার লেখা, ‘মাস্ক পরে প্রবেশ করুন’।         উদ্যোগী যুবকরা নিজেদের টাকায় কিনে এনেছেন অনেক সাবান। গ্রামের ঢোকার মুখে রাস্তার ধারে জলের ড্রাম ও সাবানগুলি রাখা হয়েছে। পথচলতি মানুষজনকে এই নিয়মে অভ্যস্ত করতে পালা করে নজরদারি চালাচ্ছেন ওই যুবকেরা। বিশেষ প্রয়োজনে যাঁরা গ্রামের বাইরে যাচ্ছেন, ফিরে আসার সময় তাঁদেরও একই ভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ঢুকতে হচ্ছে গ্রামে।

Advertisement
Advertisement

গত তিনদিন ধরে চলছে এই কাজ। বিশ্বনাথ সামন্ত এর মূল উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, ‘‘জোর করে মানুষকে কোনও কিছুতে অভ্যস্ত করে তোলা যায় না। আমরা তিনদিন ধরে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। পোস্টার দেওয়ার ফলে আমাদের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে।’’ গ্রামের সকলেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। কনকাবাগিচার বাসিন্দা কমল মাইতি বলেন, ‘‘খুবই ভাল উদ্যোগ। আমরা গ্রামে ঢোকার আগে প্রত্যেকেই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিচ্ছি ও মাস্ক ব্যবহার করছি।’’

যুবকদের যুক্তিও যথেষ্ট বলিষ্ঠ। একজন জানালেন, ”কেউ সোজা নিজের ঘরে ঢুকল হাত ধুয়ে। ভাবলেন তাঁর ঘরটি সুরক্ষিত রইল। কিন্তু ভাবুন আমাদের গ্রাম, গা ঘেঁষে থাকা বাড়ি, গাছ , বিদ্যুতের খুঁটি। বাড়িতে ঢোকার আগে আপনি অন্যের দেওয়াল , গাছ, খুঁটি কোথায় কোথায় হাত রেখে গেলেন। আর একজন সেখানে হাত রেখে নিজের ঘরে ঢুকল। এভাবেই ছড়িয়ে যাবে, এমনকি তাঁরও ঘরে যিনি বাইরে থেকে হাত ধুয়ে নিজের ঘরে ঢুকেছিলেন। আমরা বলছি নিজের গ্রাম বাঁচান , ঘর আপনি বাঁচবে । তাই এই ব্যবস্থা।”