৪৮ ঘন্টায় পারদ নামল ৪ ডিগ্রি, কাঁপছে ঝাড়গ্রাম খড়গপুর! চলতি মরশুমে শীতের প্রথম আগুন সেঁকল মেদিনীপুর

539
৪৮ ঘন্টায় পারদ নামল ৪ ডিগ্রি, কাঁপছে ঝাড়গ্রাম  খড়গপুর! চলতি মরশুমে শীতের প্রথম আগুন সেঁকল মেদিনীপুর 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার রাতে মেদিনীপুর শহরের রাঙামাটি উড়ালপুলের পূর্ব মুখে পুরানো মহুয়া সিনেমা লাগোয়া যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ যখন আগুন জ্বেলে ভবঘুরের দল শরীর সেঁকে নিচ্ছিল তখনও ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ছিল পারদ। কিন্তু ভোর বেলায় সেই পারদ ১০ঘরে নেমে যাবে সম্ভবত ভাবাই যায়নি কিন্তু হয়েছে তাই।মঙ্গলবার বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া উদ্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রারও পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যেখানে ২৭.৮২ ডিগ্রি ছিল মঙ্গলবার তা কমে ২৭.৪৯ হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই মঙ্গলবার শীতের দাপট মালুম হয়েছে অনেকটাই বেশি। তবে লক্ষণীয় যেটা তা হল রবিবার আর মঙ্গলবারের মধ্যে তাপমাত্রার হেরফের হয়েছে এক লাফে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রবিবার মেদিনীপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.০১ডিগ্রি যা মঙ্গলবার আগেই বলা হয়েছে যে ১০.৫৫ ডিগ্রি ছিল। ফলে রবিবারের অনুভূত হওয়া শীত হঠাৎ করে অনেকটাই বেড়ে গেছিল আর যে কারনে রাঙামাটি উড়ালপুল থেকে শুরু করে সিপাহীবাজার হয়ে কেরানীচটি কিংবা পঞ্চুরচক থেকে ধর্মা সর্বত্রই ভবঘুরেদের আস্তানায় মরশুমের প্রথম গা সেঁকার আগুন দেখা গেল।

৪৮ ঘন্টায় পারদ নামল ৪ ডিগ্রি, কাঁপছে ঝাড়গ্রাম  খড়গপুর! চলতি মরশুমে শীতের প্রথম আগুন সেঁকল মেদিনীপুর 2

এদিন খড়গপুরেও জব্বর ঠান্ডার আমেজ। দুপুর থেকেই ১২থেকে ১৪ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় উত্তুরে হওয়া বয়েছে। শহর জুড়ে ভোর বেলায় কুয়াশার দাপট ছিল। সেই দাপট কাটিয়ে যত ঝলমলে হয়েছে আকাশ ততই শীতের অনুভূতি বেড়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করেছে ১২ডিগ্রির গায়ে। ঠান্ডা ঝাঁপিয়ে পড়েছে রেলের বাংলো সাইডের গাছপালা ঘেরা ফাঁকা সাহেবপাড়ায় আর আইআইটির শাল সেগুন মেহগনিময় ক্যাম্পাসে। শহরের নিউটাউন, বিদ্যাসাগরপুর, সারদাপল্লীর ফাঁকা জায়গায় উত্তুরে হওয়ায় ভর করে নেমেছে শীতবুড়ি। উঁচু অবসনগুলিতে হিমেল হওয়ার দাপট।

অন্যদিকে অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রামের হাড় কাঁপিয়ে শীত পড়েছে এদিন। সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ডিগ্রি মঙ্গলবার তা নেমেছে ১০.৫৫ ডিগ্রি। তবে এদিন দক্ষিনের জেলাগুলির মধ্যে পুরুলিয়াতে সর্বাধিক তাপমান নেমে হয়েছে ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি, গোয়ালতোড়, গড়বেতা কিংবা ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া,পুরুলিয়ার জঙ্গলঅধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সন্ধ্যা নামলেই মানুষ ঢুকে পড়েছেন ঘরে অথবা শুকনো কাঠপাতা জ্বেলে জটলা করে আগুন পোহানো চলছে।

সব মিলিয়ে সমতলের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। কোনও কোনও জেলায় পারদ আরও নিম্নমুখী। অন্য দিকে পাহাড় কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে। খুশি পর্যটকেরা। বাড়ছে ভিড়। দার্জিলিঙের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কালিম্পঙে ৮.৫, শিলিগুড়িতে ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পশ্চিমের জেলাগুলিতেও পারদ পতন অব্যাহত। পানাগড়ে ৯.৪ ডিগ্রি। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অবধি রাজ্যের আবহাওয়া এমনই থাকবে বলে জানা যাচ্ছে হাওয়া অফিস সূত্রে। যদি উত্তুরে হওয়া বাধা প্রাপ্ত না হয় তবে শীত আরও লম্বা ইনিংস খেলে যাবে।