পুলিশ নয়, বাজার ফাঁকা করে দিল প্রকৃতিই! তিনদিন ধরে খড়গপুর মেদিনীপুরে চলবে ঝড়বৃষ্টি, করোনা পরিস্থিতিতে সতর্ক হতে হবে

1051
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: না, বাজারি বাবুদের ভিড় হালকা করে দিতে মঙ্গলবার আর পুলিশের দরকার হয়নি। এদিন সকাল থেকে যা করার করছেন প্রকৃতি। সোমবার বিকালের বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল তীব্র দাবদাহ থেকে। মঙ্গলবার ঝড় আর বৃষ্টি রীতিমত শীত শীত ভাব এনে দিয়েছে। সখ করে ছাতা মাথায় বাজার করার সাহস দেখাননি বেশির ভাগ মানুষই । তারা গুটিসুটি মেরে ঘরের মধ্যে লকডাউনের বাধ্য ছেলে হয়ে রয়ে গেছেন। খড়গপুর মেদিনীপুরের অধিকাংশ বাজারই তাই কার্যত ফাঁকাই।
মঙ্গলবার ঝকঝকে দিনের আলো আচমকাই উধাও হয়ে গেছিল সকাল হতে না হতেই। চারদিকে যেন শুধু ঘন অন্ধকার। আইআইটি খড়গপুরের ক্যাম্পাস ওয়েদার জানিয়েছে সকাল বেলায় ৬টার সময়
দিনের আলো ছিল ৫০শতাংশ যা বেলা ৮টার পর ১০ শতাংশ ৪০ এবং আরও নিচে নামতে শুরু করে। ঘরের আলো জ্বালাতে হয়। সকাল ৯টা নাগাদ ৬০শতাংশ আলো পাওয়া গেলেও মিনিট ১৫ পরে ফের ৪০শতাংশে নেমে যায় আলো। ঘরের মধ্যে ফ্যানের হাওয়া গায়ে কাঁপন ধরিয়েছে। দক্ষিনপূর্ব থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে এসেছে ১৩ থেকে ২৫ কিলোমিটার বেগে যা নিরন্তর ১৩কিমিতেই স্থায়ী হয়ে রয়ে গেছে।
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া উদ্যান জানিয়েছিল সোমবার দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৬.২৩ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল সর্বনিম্ন ২৩.৪৬। মঙ্গলবার আইআইটির হিসাবে তা নেমে দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ৩১ ও সর্বনিম্ন ২৩ডিগ্রিতে।
শুধুই অবশ্য খড়গপুর বা মেদিনীপুর নয়, কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই শুরু হয়েছে। সঙ্গে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। এ দিন বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা উজ্জ্বল। বিহার লাগোয়া উত্তরপ্রদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখাও বিস্তৃত রয়েছে। তার ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে। তাই বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চারের পরিস্থিতি অনুকূল থাকবে। দমকা বাতাস, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের জোর সম্ভাবনা।
বিশেষ করে মঙ্গলবার ঝড় ও বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে। ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হওয়া। বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কালবৈশাখীর পূর্বাভাসও রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে বিক্ষিপ্তভাবে দু’এক জায়গায়। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি- এই তিনদিন ঝড়ের গতিবেগ বাড়তে পারে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টি হওয়ারও পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। বৃষ্টির পরিমাণ হতে পারে ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত।
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি হলেও উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা- দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
করোনা পরিস্থিতিতে তাই সতর্ক থাকতে হবে সব্বাইকে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের। তাপমাত্রার এই বৈপরীত্য যেন ঠান্ডা না লাগিয়ে দেয় সতর্ক হতে হবে সেদিকে।

Advertisement

Advertisement
Advertisement