আগামীকাল রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী তারই আগে পদত্যাগ বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের! শুভেন্দুর পথেই কী রাজীব

923
আগামীকাল রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী তারই আগে পদত্যাগ বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের! শুভেন্দুর পথেই কী রাজীব 1

নিউজ ডেস্ক: আগামী কাল নেতাজীর জন্ম শতবর্ষের বিশেষ অনুষ্ঠানে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর ঠিক তার ২৪ঘন্টা আগেই পদত্যাগ করলেন ডোম জুড়ের বিধায়ক বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কয়েকমাস ধরেই তাঁকে নিয়ে জল্পনা চলছিল, তিনি নিজেও জিইয়ে রেখেছিলেন সেই সম্ভবনা। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার নিজের বনমন্ত্রীর প্যাডেই টাইপ করা পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে। গদ বাঁধা ফরমেটে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য এবং অনুরোধ করেছেন আজ অর্থাৎ ২২শে জানুয়ারি পাঠানো পদত্যাগ পত্রটি গ্রহন করার জন্য। উল্লেখ্য শুভেন্দু অধিকারীর পর তিনি তৃতীয় মন্ত্রী যিনি

আগামীকাল রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী তারই আগে পদত্যাগ বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের! শুভেন্দুর পথেই কী রাজীব 2

রাজ্য মন্ত্রী সভা থেকে পদত্যাগ করলেন। শুভেন্দুর ঠিক পরে পরেই  পদত্যাগ করেছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যান মন্ত্রী লক্ষীরতন শুক্ল। যদিও এখনও বিধায়ক ও দলীয় সদস্য থেকে পদত্যাগ করেননি তিনি তবে সেই পথেই যে তিনি যাচ্ছেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগেই শুভেন্দু অধিকারী রাজীব বন্দোপাধ্যায় ও আরেক নেতাকে দল ছেড়ে বেরিয়ে আসার আহবান জানিয়েছিলেন আর তারপরই এই পদত্যাগ!

আগামীকাল রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী তারই আগে পদত্যাগ বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের! শুভেন্দুর পথেই কী রাজীব 3

এদিকে ঠিক যেমন অমিত শাহ রাজ্য সফরে আসার আগে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগ করেছিলেন প্রায় একই রকম ভাবে প্রধানমন্ত্রী সফরের আগে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদত্যাগ উসকে দিয়েছে নয়া জল্পনা যে তাহলে কী শুভেন্দুর পথেই বিজেপিতে রাজীব? মতই গত কয়েকমাস ধরে মন্ত্রীসভার একের পর এক বৈঠকে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্ততঃ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে গর-হাজির ছিলেন। দিনকয়েক আগে ফেসবুক লাইভেও বেসুরো ছিলেন ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়ক। আজ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্তফা দেওয়ার পর, রাজভবনে যাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে, সম্প্রতি ১৬ জানুয়ারি ফেসবুক লাইভে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজীব। তিনি বলেন, ‘এখনও ধৈর্যচ্যুতি ঘটেনি। ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি। আপনাদের জন্য ধৈর্য ধরে রেখেছি’। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে রাজীব বলেন, ‘দলনেত্রীর আদর্শকে সামনে রেখে মানুষের পাশে থাকার কাজ করছি। নিষ্ঠার সঙ্গে ভাল কাজ করতে গিয়েছি, বাধার কথা জানানোর চেষ্টা করছি। কিছু মানুষ ভুল বুঝিয়ে অন্য পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছেন।‘ সেইসাথেই তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের কর্মীদের সম্মানের কথা বলেন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যখন দেখা যায় কর্মীদের সম্মান দেওয়া হয় না তখন কিছু বললে অন্যায়?’ এদিন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে একপ্রকার ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘আমার মনের কথা যখন নেতৃত্বকে বলছি, তখন কয়েকজন যখন এটা উল্টোভাবে ভাবার চেষ্টা করছেন, এটাকে অন্যরকম করে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন কেউ, কই তাঁদের তো কিছু বলা হচ্ছে না? এটাই আমাকে দুঃখ দেয়। তাহলে যেটুকু বলা হবে, শুধু সেটুকুই করব? নিজের মধ্যে স্বাধীনতা থাকবে না? আমি কী করতে চাইছি, কী বলতে চাইছে, কোনও কিছু বলতে পারব না আমি?

এই ফেসবুক লাইভ নিয়ে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল দলে। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যায় তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মীদের। পিছুপা হননি হাওড়া জেলা পরিষদের মেন্টর কল্যাণ ঘোষ। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি রাজীবকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সেচমন্ত্রী হওয়ার পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজে লেগে পড়েন। প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের কোণঠাসা করে তাঁদের মারধর এবং বিভিন্ন মিথ্যে মামলায় ফাঁসান! এলাকায় নিজের পছন্দমতো লোকেদের নিয়ে বলয় তৈরি করেছেন মন্ত্রী। এমনকী পুকুর ভরাট, বেআইনি নির্মাণ, তোলাবাজি–সহ নানা অবৈধ কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন।
কল্যানের অভিযোগ ছিল, নিজের আত্মীয়দের পাকাপোক্ত সরকারি চাকরি আর দলের কর্মীদের ঠিকা চাকরি দিয়েছেন রাজীব।

উল্লেখ্য ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজীবের বিরুদ্ধে রুষ্ঠ হয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জী। কারন অভিযোগ ছিল জেলা পরিষদের প্রার্থী দলীয় প্রার্থী এই কল্যানকেই ডোমজুড় কেন্দ্র থেকে হারিয়ে দেন নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়ে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী রাজীবকে সেচ দফতর থেকে সরিয়ে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী করেন। উল্লেখ্য ২০১১ সাল থেকেই আজ অবধি টানা মন্ত্রী ছিলেন। ২০১১-১৮ সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রী, ২০১৮-১৯ অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তর এবং তারপর এ অবধি বনদপ্তর সামলাচ্ছিলেন তিনি।

Previous articleকর্ণাটকের শিবমোগায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! মৃত কমপক্ষে ৮, মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা
Next articleজীর্ণ মন্দিরের জার্নাল– ৮৪, চিন্ময় দাশ