আইনজীবী রজত দে-র খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হল স্ত্রী অনিন্দিতা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রজতের পরিবারের

189

ওয়েব ডেস্ক : ২০১৮ সালে আইনজীবী রজত দে-র হত্যার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা রাজ্যে। প্রায় দুবছর পর শেষমেশ সোমবার এই মামলার বিচার করে বারাসত আদালত। এদিন আইনজীবী রজতকুমার দে-র খুনের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা পাল দে কেই খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করল বারাসত আদালত। তবে এদিনই রায় দিলেও আদালতের তরফে সাজা ঘোষণা করা হয়নি। বুধবার স্বামী রজত দেকে খুনের ঘটনায় অনিন্দিতা পাল দের সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক। রজত দে খুনের পর অনিন্দিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একাধিকবার পুলিশকে ভুল বুঝিয়েছেন তিনি। এরপরই মামলার তদন্তে একাধিক রহস্য উঠে আসে। এই ঘটনায় পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, তদন্তের সময় অনিন্দিতার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ছিল। এমনকি তিনি বলেছিলেন রজত দে আত্মহত্যা করেছেন। পরবর্তীকালে তদন্ত যত এগিয়েছে তত স্পষ্ট হয়েছে আত্মহত্যা নয় বরং গলায় চার্জারের তার জড়িয়ে আইনজীবী রজত দে কে খুন করেছেন তাঁর স্ত্রী পেশায় আইনজীবী অনিন্দিতা পাল দে। এই ঘটনায় দোষী অনিন্দিতার চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নহত আইনজীবী রজত দে-র বাবা। তবে এদিন বিচারকের রায় শোনার পর পালটা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনিন্দিতার আইনজীবী।

আরও পড়ুন -  খড়গপুরে ফের কাউন্সিলার টানলে পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুংকার সায়ন্তনের

এদিন মামলার শুনানির পর বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দুর্ঘটনা কিংবা আত্মহত্যা কোনোটাতেই খুন হননি রজতবাবু৷ বরং তাকে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার তদন্তের প্রথম পর্যায়ে মনে করা হয়েছিল খুনের দিন রাতে রজতের ফ্ল্যাটে রজত অনিন্দিতা ছাড়াও তৃতীয় কোনোও ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে, ২৫ সগে নভেম্বর ২০১৮ রাতে মোবাইলের চার্জার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করা হয়েছিল রজতকে। তার আগে মারধরও করা হয়। এমনকি ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে রজতের মাথার দু’পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে রজতকে খুনের পর আত্মহত্যা করেছে বলে গল্প ফাঁদার চেষ্টা করে। যদিও সে গল্প ধোপে টেকেনি। সরকারি আইনজীবীরা সমস্ত তথ্য প্রমাণ আদালতে পেশ করে দাবি করেন যে অনিন্দিতাই খুন করেছে রজতকে।

প্রসঙ্গত, বছর দুয়েক আগে নিউটনের ডিবি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে আইনজীবী রজত দে-র দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে হাসপাতলে নিয়ে গেলে রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর হাসপাতালের তরফে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রথমাবস্থায় তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতাকে সন্দেহ করা না হলেও জেরায় একাধিকবার তার বয়ান বদলই প্রথমে দাবি করেছিলেন যে তাঁর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। পরে তাঁর বয়ানে অনেক অসঙ্গতি দেখা যায়। এর থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ দানা বাঁধে৷ এরপর ময়না তদন্তের রিপোর্টে রজতের দেহেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন মেলে। এরপরই পুলিশ সন্দেহ করে আত্মহত্যা না খুন করা হয়েছে রজতকে। এরপরই খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরেই ডিসেম্বর মাসে রজত দে-কে খুনের অপরাধে স্ত্রী অনিন্দিতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ দুবছর পর সেই ঘটনার রায় দিল বারাসাত আদালত৷

আরও পড়ুন -  চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক স্বীকার করে নিয়ে ঝা জানালেন বখরা চেয়েছিল প্রদীপই

এদিন বারাসত আদালতের বিচারক সুজিত কুমার ঝা ওই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অনিন্দিতাকে এ দিন খুন এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। জানা গিয়েছে বুধবার তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে৷ ফলে স্বাভাবিকভাবেই এইধরণের নৃশংসভাবে ঠান্ডা মাথায় খুনে বিচারক কী সাজা দেবেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।

আইনজীবী রজত দে-র খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হল স্ত্রী অনিন্দিতা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রজতের পরিবারের 1