শিলিগুড়ির ব্যস্ততম সড়ক থেকে সাত সকালেই উদ্ধার মহিলার রক্তাক্ত দেহ ! ১৩দিনের মাথায় দ্বিতীয় খুনে চাঞ্চল্য শহর জুড়ে

282
শিলিগুড়ির ব্যস্ততম সড়ক থেকে সাত সকালেই উদ্ধার মহিলার রক্তাক্ত দেহ ! ১৩দিনের মাথায় দ্বিতীয় খুনে চাঞ্চল্য শহর জুড়ে 1

নিউজ ডেস্ক: পেটে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত সহ শিলিগুড়ির অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিলকার্ট রোড থেকে সাত সকালে এক মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল শহরে। বৃহস্পতিবার সকালে এই মৃতদেহ পাওয়া গেছে শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার একটি হোটেলের সামনে থেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন কাজে বেরিয়ে ওই ক্ষতবিক্ষত মহিলার মৃতদেহটি রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের মারফৎই খবর যায় থানায়।

ঘটনার খবর পেয়েই শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের সহকারী পুলিশ কমিশনার চিন্ময় মিত্তলের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। আনা হয় পুলিশ কুকুরও। মহিলার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখুনি লক্ষ্য করা যায় মহিলার পেটের বেশ কয়েক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লক্ষ্য রয়েছে । পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি গভীর পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পা যায় মৃতদেহটি পাওয়ার স্থান থেকে ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে রক্তের দাগ রয়েছে।

শিলিগুড়ির ব্যস্ততম সড়ক থেকে সাত সকালেই উদ্ধার মহিলার রক্তাক্ত দেহ ! ১৩দিনের মাথায় দ্বিতীয় খুনে চাঞ্চল্য শহর জুড়ে 2

এতদুর বিস্তৃত রক্তের চিহ্ন থেকে প্রাথমিক ভাবে   পুলিশের অনুমান, কেউ বা কারা যখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই মহিলাকে আঘাত করছিল তখন প্রাণ বাঁচানোর জন্য মহিলা এলো পাথাড়ি ছুটে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ অবধি সফল হয়নি। পুলিশের আরও ধারণা ঘটনাটি মধ্য রাতের পরে রাস্তায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার পরেই হয়েছে নতুবা কারও নজরে পড়ত। পুলিশ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে যদি কোনও ক্লু পাওয়া যায়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য ১৩দিনের মাথায় ফের একটি খুনের ঘটনা ঘটল। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি  শিলিগুড়ির ঝঙ্কার মোড়ের বাসিন্দা উমেশ শাহর  গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল বছর চল্লিশের সেই ব্যক্তিকে। জাতীয় সড়কের ধারে মহানন্দা ক্যানালের পাশ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মোটরবাইক। সেই ঘটনার তদন্ত চলার মাঝেই আরও একটি খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শহরবাসীর অভিযোগ,রাত বাড়লেই শহরজুড়ে বেড়ে যায় দুষ্কৃতিদের দাপট।ব্যস্ততম রাস্তাগুলিকে নিশানা করে দুষ্কৃতিরা।চুরি ছিনতাই অহরহ ঘটছে।প্রধাননগর থানা এলাকায় নেশাগ্রস্থদের আস্তানার হদিশ মেলে মাঝেমধ্যে।চলে পুলিশি অভিযান।কিছুদিন অসামাজিক কাজ বন্ধ থাকলেও।ফের যেই কে সেই হাল ফিরে আসে।খুনের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত শহরবাসী।নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার দাবী উঠছে।