শুদ্ধকরণ করেই আসতে হবে, নাহলে ঠাঁই নেই; শোকজ হওয়ার পরেও নব্যদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি জেলা বিজেপি সভাপতির

225
শুদ্ধকরণ করেই আসতে হবে, নাহলে ঠাঁই নেই; শোকজ হওয়ার পরেও নব্যদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি জেলা বিজেপি সভাপতির 1

অশ্লেষা চৌধুরী:শোকজ হয়েছেন তিনটে দিনও পেরোয়নি, কিন্তু তাতেও দমবার পাত্র নন তিনি। সদ্য দলে যোগ দেওয়া কর্মীদের নিয়ে সুর চড়ালেন বিজেপির জেলা সভাপতি। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বললেন, । তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জে নব্য-পুরাতন বিজেপির দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে, তা বলা বাহুল্য। ‘কিছু কর্মী তৃণমূল ছেড়ে ওখানে গেছিল বড়ো মাছ ধরবে বলে, কিন্তু ধড়েছে ব্যাঙাচি।‘ কটাক্ষ ঘাসফুল শিবিরের।

গঙ্গা প্রসাদ এদিন বলেন, নব্যদের পাপের দায়িত্ব বিজেপি নেবে না। শুদ্ধিকরণ করেই আসতে হবে।‘ সেইসাথেই গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, আমরা সবাইকে আপন করে নেব। যারা তৃণমূলে থেকে পাপ করেছেন, তাদের সেই পাপের দায়িত্ব বিজেপি নেবে না। বিজেপির নেতা-কর্মীদের অত্যাচার করে বা মিথ্যা মামলা দিয়ে এখন যতই পালাবদল বা গুনগান করুন না কেন, যদি আপনি অন্যায়-অত্যাচার করে থাকেন, আমাদের কর্মীরা আপনাকে ছেড়ে কথা বলবেনা।

শুদ্ধকরণ করেই আসতে হবে, নাহলে ঠাঁই নেই; শোকজ হওয়ার পরেও নব্যদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি জেলা বিজেপি সভাপতির 2

তবে নিজের এহেন বক্তব্যের সমর্থনে সাফাইও খাঁড়া করেছেন জেলা সভাপতি। তিনি বলেন, কর্মীদের মনোবল, ভরসা যোগানোর কারনে যতটুকু প্রয়োজন সেই বার্তাই দিয়েছি। তাদের দলীয় জেলা অফিসে ডেকে সম্বর্ধনা দিয়ে, মিস্টিমুখ করিয়ে দলের কাজে লাগাবো।

প্রসঙ্গত, অমিত শাহী সভায় গত শনিবার তৃণমূলের সদ্য প্রান্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ আলিপুরদুয়ারের তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ দশরথ তিরকে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন। একই সঙ্গে জেলা তৃণমূলের দুই সহ সভাপতি আশিস দত্ত ও অভিজিত্‍ মজুমদারও যোগ দেন। তাতেই ক্ষুব্ধ জেলার বিজেপি নেতাকর্মীরা। যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আলিপুরদুয়ারে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। দশরথ তিরকের বাসস্থান কুমারগ্রাম ব্লকে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। বিজেপি কর্মীরা দলীয় পতাকা হাতে আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্ৰাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়িতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের বক্তব্য, তৃণমূলের হার্মাদ দশরথ তিরকেকে কোনমতেই দলে নেওয়া যাবে না। দশরথ তিরকের দলে কোন ঠাঁই নেই । এদিন কামাখ্যাগুড়ি প্রধান সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। প্রচন্ড বিক্ষোভ তৈরি হয় আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে। এদিন সন্ধার আগে জেলার কামাখ্যাগুড়ি, বারোবিশা ও কুমারগ্রামে দশরথ তিরকের কুশপুতুল দাহ করেন বিজেপি কর্মীরা।

এরপরেই এই যোগদান প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে দল বিরোধী মন্তব্যের জন্য রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে মঙ্গলবার শোকজ করা হয় গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাকে। সূত্রের খবর, ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা রয়েছে তাঁকে। কিন্তু তারপরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি গঙ্গা প্রসাদ শর্মা রাজ্য নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে একটি পোস্ট দেন। তার সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ধন্যবাদ রাজ্য বিজেপিকে আমাকে শো-কজ নোটিশের জন্য। উচিৎ উত্তর পাবেন।‘ স্বাভাবিক ভাবেই সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় জোর জল্পনা। এরই মধ্যে আবার

বুধবার আলিপুরদুয়ারের পলাশবাড়ির জনসভায় নব্য বিজেপিদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন জেলা সভাপতি।

আর এই সুযোগ একেবারেই হাত ছাড়া করেননি তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিজেপি দলের প্রহসন, অভ্যন্তরীন বিশৃঙখলা এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যার জন্য আগুন জ্বলছে, অবরোধ হচ্ছে নিজের দলের বিরুদ্ধেই। মানুষ চিন্তিত। কিছু কর্মী তৃণমূল ছেড়ে ওখানে গেছিল বড়ো মাছ ধড়বে বলে, কিন্তু ধড়েছে ব্যাঙাচি।‘

উল্লেখ্য, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর নির্বাচন ঘিরে সকল রাজনৈতিক দলগুলিই কোমড় বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে। চারিদিক থেকে দল বদলের খবর। জোড়াফুলের অনেক প্রভাবশালী নেতাই বিভর হয়েছেন পদ্মের সুবাসে। কিন্তু এই দল বদল ঘিরে পদ্ম শিবিরের অনেকের মনেই জন্ম নিচ্ছে ক্ষোভ, যার জ্বলন্ত উদাহরন সম্প্রতি পদ্ম শিবির ছেড়ে জোড়াফুল যোগ দেওয়া সৌমিত্রর স্ত্রী সুজাতা। তাঁর ওপর আবার নব্য দের উদ্দেশ্যে পুরাতন বিজেপি নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ারি কোথাও যেন নতুন করে জল্পনার জন্ম দিচ্ছে।