দেবদত্তার পর ফের কর্মরতা তরুনীর মৃত্যু চন্দন নগরে, বিয়ের মাত্র ১মাসের মধ্যেই করোনায় মৃত্যু ৩৬ বছরের শিক্ষিকার

114
দেবদত্তার পর ফের কর্মরতা তরুনীর মৃত্যু চন্দন নগরে, বিয়ের মাত্র ১মাসের মধ্যেই করোনায় মৃত্যু ৩৬ বছরের শিক্ষিকার 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: হুগলি জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট চন্দননগরে কর্মরতা দেবদত্তা রায়ের মৃত্যুর ২৪ ঘন্টা পেরাতে না পেরোতেই ফের করোনার থাবায় মৃত্যু হল চন্দননগরের বাসিন্দা এক তরুনী শিক্ষিকার। দেবদত্তার বয়স ছিল ৩৮ বছর আর মঙ্গলবার মৃত শিক্ষিকা সৌমি সাহার বয়স মাত্র ৩৬ বছর।

করোনা সাধারনত বয়স্কদের জন্য বিপদ, করোনা তাঁদের জন্য বিপদ যাঁদের অন্য রোগ রয়েছে এই কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল এই দুই প্রাণচঞ্চল যুবতীর মৃত্যুতে। চন্দননগর বাসিন্দাদের কাছে মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি মৃত্যুই অত্যন্ত শোকাবহের কারন দেবদত্তা রায় রেখে গেছেন চার বছরের সন্তানকে আর সৌমি মাত্র ২ মাস হল বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্দননগর মুন্সিপুকুরের বাসিন্দা সৌমি সাহা হুগলির আমনান গ্রাম পঞ্চায়েতের কাসোয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা পদে কর্মরত ছিলেন। করোনা আবহের মধ্যেই গত ১৩ জুন বিয়ে হয় সৌমির। সামাজিক দূরত্ববিধি, মাস্ক, সবকিছু মেনেই বিয়ে হয়েছিল তাঁর। তারপর থেকে নতুন জীবনে চলা শুরু। কিন্তু সেই নতুন জীবনের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র এক মাসের। চার দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন সৌমি। তারপরই তাকে ব্যান্ডেল ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন -  করোনা যুদ্ধের সৈনিকদের বর্ম যোগাচ্ছেন খড়গপুরের মহিলা ব্রিগেড, হাজার কিটের বরাত মেটাবেন তাঁরাই

মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সৌমি। সৌমির মৃত্যুতে চন্দননগর মুন্সিপুকুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হুগলি জেলা তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী জানান, সৌমি তাঁদের শিক্ষক সমিতির সক্রিয় সদস্য। তার মৃত্যুতে শুধু সমিতির নয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

আরও পড়ুন -  তৃণমূল বিজেপির সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মাথা ফাটল ঘাটাল ও.সি র! একের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে অন্যে

দুর্ভাগ্যের হল দেবদত্তার সাথে আরও একটা মিল রয়েছে সৌমির। রাজ্যের একজন বড় আমলা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দেবদত্তার জন্য কলকাতার হাসপাতাল জোটেনি। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর পরিবার কলকাতায় শয্যা না পাওয়ায় তাঁকে মহানগরে নিয়ে যেতে পারেনি আর সৌমিকে কলকাতার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই তিনি মারা যান। জানা যায়নি গেলে কলকাতার হাসপাতালের দুয়ার খুলত কিনা। তবে বাস্তবতা এটাই মহানগরের আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ দুজনের কেউই পাননি, মহানগরের এত কাছে থাকা স্বত্ত্বেও। সব মিলিয়ে গোটা চন্দননগরের অধিবাসীদের মন খুবই খারাপ পর পর দুটি দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুতে।

দেবদত্তার পর ফের কর্মরতা তরুনীর মৃত্যু চন্দন নগরে, বিয়ের মাত্র ১মাসের মধ্যেই করোনায় মৃত্যু ৩৬ বছরের শিক্ষিকার 2